
বছরকাহন!!!
দেখতে দেখতে আমার লাল এফজি-র বয়স এক বছর হয়ে গেলো। এক বছরে তাহাকে সাথে করে ৯৪০০ কিমি পথ পাড়ি দিয়েছি। এটা আমার দ্বিতীয় বাইক। প্রথমটা ছিল লাল আরটিআর যাকে সাথে করে ৫.৫ বছরে ৪৫০০০+ কিমি পথ পাড়ি দিয়েছিলাম।
আজ গত এক বছরের কিছু অভিজ্ঞতা এবং মেইন্টেনেন্সের জন্য আমি যা যা করেছি সেটা শেয়ার করব। অন্যান্যদের মত টেকনিক্যাল বিষয়গুলি বিশেষ না বুঝলেও এফজি এফআই সম্পর্কে সাধারণ বাইকার হিসেবে যা বুঝেছি এবং করেছি তা হলো –
সিটিং পজিশন আমার কাছে সমমানের বাইকগুলার মধ্যে পারফেক্ট মনে হয়েছে।
কন্ট্রোলিং বাজারের সমমানের বাইকগুলোর মধ্যে সেরা।

ব্রেকিংটাও যথেষ্ট রেসপন্সিভ। যখনই ব্রেক করার দরকার হয়েছে, এফজি হতাশ করেনি।
ফুয়েল কঞ্জামশন ৩৭-৪০ কিমি/লিটার। ঢাকার রাস্তায় আনুমানিক এটা পাচ্ছি এবং আমি এতেই খুশি।
৪০০, ৯০০, ১৫০০, ২৫০০, ৩৫০০ কিমি তে ইঞ্জিন অয়েল পাল্টিয়েছি (মতুল মিনারেল)। ৪৫০০ তে প্রথম সিন্থেটিক দেই (মতুল), ৬০০০ এ আবার মতুল এবং সবশেষ ৮৮০০ তে মবিল ১ দিয়েছি। প্রতিবার ইঞ্জিন অয়েল পাল্টানোর সময় ফিল্টারও পাল্টিয়েছি।
ব্রেক শু পালটানো, টেইল লাইট পালটানো, হর্ন পালটানো, চেইন টাইট দেয়া, ওয়ারেন্টির সার্ভিস ছাড়া আর তেমন কোনো বড় কাজ করতে হয়নি।
গড়ে ২ সপ্তাহ পরপর চেইন হালকা পরিস্কার করে লুব দেই ( বোতলে ইঞ্জিন অয়েলের যেটুকু থেকে যায় সেটা ব্যবহার করি)।
গড়ে প্রতিমাসে একবার বাইক ওয়াস করাই এবং প্রয়োজনীয় অংশগুলোতে লুব দেই।
উল্লেখিত পরিবর্তন এর সাথে স্টকের বাকি যন্ত্রাংশ দিয়ে যেই এক্সিলারেশন এবং স্পিড যা পাই তাতে আমি যথেষ্ট খুশি। কারণ আমি টপ-এ বিশ্বাসী নই, যারা আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চিনে তারা জানে।
গত কোরবানীর ঈদের পরদিন বাবুবাজার ব্রিজের পাশের রাস্তায় স্লিপ করে পড়ে যাই। আল্লাহর রহমতে হাতে একটু ছিলে যাওয়া ছাড়া তেমন বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বাইকের হেড এর কিছু পার্টস ভেংগে যায়। এই বাইকের পার্টস গুলো বিশেষ করে প্লাস্টিক অংশের কোয়ালিটি আশানুরুপ নয়। তবে বিশালাকার বাম্পার পড়ে যাবার পর আমার পা এর সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে।
মেটাল অংশগুলোর মধ্যে বেশকিছু জায়গায় মরিচা ধরেছে যা অপ্রত্যাশিত।
৮০০০ কিমি তে ইয়ামালুব কার্বন ক্লিনার ব্যবহার করেছি যদিও সাধারন বাইকার হিসেবে এর কার্যকারিতা ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি!
লং ট্যুর তেমন একটা দেয়া হয়না। মাওয়া, সাফারি পার্ক, গাজিপুর, কাপাশিয়া, নবাবগঞ্জ এসব জায়গায় ঘুরেছি তবে মুলত আমি সিটি রাইডার।
১৭ মডেলের হওয়ায় এর AHO প্রতিদিন গুটিকয়েক সচেতন (!) মানুষের সাবধান বানী শুনতে বাধ্য করে। তবে আল্লাহর রহমতে এখনো ব্যাটারিজনিত কোনো সমস্যা হয়নি।
স্মুথ আর জেন্টেল রাইডিং এর জন্য এফজি আমার পছন্দ এবং সাজেস্টেড একটি বাইক যদিও দামটা আরেকটু কম হওয়া উচিত ছিল!
পরিশেষে, কষ্ট করে আমার সারবস্তুহীন বকবকানি পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
অভিজ্ঞ ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমি কোনো ভুল করে থাকলে বলবেন এতে করে আমার মত অন্যান্য আম-বাইকার নিজের প্রিয় বাইকটার ভালো যত্ন নিতে পারবেন!
বাইকাররা ভাই-ভাই!
লালে টান বেশি!!
সেফটি নিশ্চিত করে বাইক চালান!!!
রিভিউ কৃতজ্ঞতা -আব্দুল হামিদ, এফসিবিয়ান